জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধ, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আজ আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালে হাজির থাকা আসামি জুনাইদ আহমেদ পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। পলাতক সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন মঞ্জুর আলম।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষ দাবি করে, জয় ও পলকের সঙ্গে ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন পলক। এর জেরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ হামলায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা অংশ নেয়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগও আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হন। পাশাপাশি উত্তরা এলাকায় সংঘটিত ৩৪ হত্যায় সহায়তার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন আদালত। গ্রেপ্তার থাকা জুনাইদ আহমেদ পলককে একই দিনে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।