ইরানে চলমান বিক্ষোভে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি চরম সীমায় পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) । শনিবার (১০ জানুয়ারি) আইআরজিসি বলেছে, তারা দেশের নিরাপত্তা ও ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের অর্জনগুলো রক্ষা করবে।
আইআরজিসির অভিযোগ, দুই রাত ধরে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে, সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের হত্যা করছে এবং সম্পত্তি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
আইআরজিসি ইরানের সেনাবাহিনী থেকে পৃথক একটি বিশেষ বাহিনী।
এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও বলেছে, তারা জাতীয় স্বার্থ, দেশের কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষা করবে এবং সুরক্ষা দেবে।আইআরজিসির মতো ইরানের সেনাবাহিনীও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীন পরিচালিত হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাতে পশ্চিম তেহরানের কারাজে একটি পৌরসভা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় গত বছর ২৮ ডিসেম্বর। আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূলত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, কিন্তু দ্রুতই তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। প্রতিবাদকারীদের কেউ কেউ এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্র শেষ করার ডাক দিচ্ছেন।
তেহরানের চিকিৎসকেরা বলেছেন, রাজধানীর মাত্র ৬টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই গুলিবিদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালগুলোতে হতাহতদের ভিড় উপচে পড়ছে।
একটি ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে সম্ভবত এক দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ আছে। শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে নেটব্লকস বলেছে, ‘সূচকগুলো বলছে, ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশব্যাপী (ইরান) ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি আছে।’