সাধারণ জনগণের ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হস্তক্ষেপে সহিংস হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) লেবাননে সফরকালে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করেছে এবং এটা সত্য। মূলত তাদের হস্তক্ষেপের কারণেই জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর রানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবনতি, তার জেরে অসহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় নাভিশ্বাস উঠছিল ইরানের সাধারণ জনগণের। এ পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।
এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিন দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। গতকাল দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার।
মার্কিন সাময়িকী টাইমস জানিয়েছে, বিক্ষোভের ১৩ দিনে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে নিহত হয়েছেন দুই শতাধিক।
এদিকে, ইরানে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তেহরানকে মোট চারবার সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবারই তিনি বলেছেন, ইরানি জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশটির ইসলামপন্থি সরকার দমন-পীড়ন চালালে দেশটিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার যদিও এখনও প্রকাশ্যে কিংবা দাপ্তরিকভাবে ইরানের আন্দোলন নিয়ে কোনো কথা বলেনি, তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে জনগণের বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে।
ট্রাম্পের হুমকি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে এএফপিকে আরাগচি বলেন, আমার মনে হয় এমন (ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান) সম্ভাবনা কিংবা আশঙ্কা কম। কারণ, এর আগেও তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সেসব পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র : এএফপি।